গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার ভাবনা এবং খুটিনাটি। লেখাটি আপনারই জন্য।

জন্মের শুরু থেকেই বলতে গেলে গ্রাফিক্স এর সংপর্শেই আমাদের বেড়ে উঠা। সহজভাবে বুঝিয়ে বলার জন্য বলতে গেলে বলা যায় শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে যে বইগুলো আমরা পড়েছি এবং এখনো পড়ছি সকল কিছুর মধ্যেই কিছু না কিছু গ্রাফিক্সের কাজ বিদ্যমান আছে আর প্রত্যেক বইয়ের কভার ডিজাইন করেন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রায় সকল কিছুর সাথেই গ্রাফিক্স ডিজাইন ওতপ্রতভাবে জড়িত। খাদ্যক্ষেত্রে বলতে গেলে, বিভিন্ন রকমারি খাদ্যকে আকৃষ্ট করার জন্য যে বাহারী প্যাকেটজাত করা হয় কিংবা বিভিন্ন খাবারের জন্য যে কভার থাকে এগুলোকে বলা হয় প্যাকিজিং ডিজাইন যা গ্রাফিক্স ডিজাইনেরই একটি অংশ।
আবার যদি বলা হয় দেশের কোটি কোটি ছোটবড় মাঝারি দোকানপাট কিংবা প্রতিষ্ঠানের কথা, তাহলে প্রত্যেকটা দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠানের সামনেই দেখা যাবে বিভিন্ন সাইনবোর্ড ঝুলছে, যেগুলো একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ। এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে যা বলে শেষ করা যাবেনা। গ্রাফিক্স ডিজাইন ছাড়া পৃথিবী অচল সেটা নিঃসন্দেহে স্বীকার করতেই হবে।
গ্রাফিক ডিজাইন কি?
সহজ কথায় বলতে গেলে গ্রাফিক ডিজাইন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে যে কোন তথ্য বা ছবি শৈল্পিক উপায়ে উপস্থাপন করা হয়। একজন ডিজাইনার তার কাজের মাধ্যমে খুব সহজেই ব্যবহারকারির মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারেন এবং সংক্ষিপ্ত ও নান্দনিক উপায়ে তথ্য পৌঁছে দিতে পারেন।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার কে?
প্রথমেই জেনে নিই গ্রাফিক্স ডিজাইনার কে বা তার কাজ কী। তার আগে বলি, গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো আর্ট বা শিল্প।  আসলে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেন তিনি যিনি গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী বেশ কিছু আর্ট, টাইপফেস, ইমেজ এবং অ্যানিমেশন ব্যবহারের মাধ্যমে তার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হন। এর আউটপুট ডিজিটাল বা প্রিন্ট উভয়ই হতে পারে। আর বর্তমান সময়ে সচরাচর পাওয়া বিভিন্ন টুলস ও লেআউট ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার কাজকে আরও বেশি ক্রিয়েটিভ ও গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি তৃপ্তি দিতে পারছেন।

যা জানতে হবেঃ
গ্রাফিক ডিজাইনার হওয়ার জন্য আপনাকে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার প্রয়োজন নেই তবে ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষতা থাকলে অনেক ভালো কিছু করতে পারবেন। অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি কিংবা বিদেশি বায়ারের সাথে যোগাযোগের জন্য ইংরেজি জানা একটি পূর্বশর্ত। এ ছাড়া কম্পিউটার অপারেট করা জানতে হবে অর্থাৎ বেসিক কম্পিউটিং সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক। ইন্টারনেট সংযোগ থাকা আবশ্যক কারন আপনি যে কোন বিষয়ে অনলাইন থেকে সাহায্য নিতে পারবেন। ডিজাইনের কাজের জন্য প্রয়োজন ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার যেমন অ্যাডোবি ফটোশপ, অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর প্রভৃতি। যদি আপনার মন হয়ে থাকে সৃজনশীল অর্থাৎ আপনার যদি আঁকাআঁকি করতে ভালো লাগে তাহলে সেটা অবশ্যই প্লাস পয়েন্ট।

গ্রাফিক ডিজাইনারের কাজের ক্ষেত্রঃ
গ্রাফিক্স ডীজাইনারদের কাজের ক্ষেত্র বিশাল। বলতে গেলে সর্বত্রই গ্রাফিক্স ডীজাইনারদের চাহিদা বিদ্যমান। একজন গাফিক্স ডিজাইনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে।

যেমন একজনঃ

ফ্যাশন ডিজাইনার, লগো ডিজাইনার, প্রিন্ট ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, এড ডিজাইন, প্রিন্ট মিডীয়া, ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া, কার্টূন মেকার, ফটোগ্রাফি, প্যাকেজিং ডিজাইনার ইত্যাদি আরো এমন অনেক ক্ষেত্রে একজন ডিজাইনার কাজ করতে পারেন।

এছাড়া একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার নিম্নোক্তভাবে কাজ করতে পারেন খুব সহজেই কোনো কোম্পানিতে অথবা বর্হিবিশ্বের ক্লায়েন্টের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে।

১। লোগো ডিজাইন ২। ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন ৩। ওয়েবসাইট পিএসডি টেম্প্লেট ডিজাইন ৪। ওয়েব ব্যানার ডিজাইন ৫। বুক কভার ডিজাইন ৬। টি-শার্ট ডিজাইন ৭। পোস্ট কার্ড ডিজাইন ৮। বিজ্ঞাপন ডিজাইন ৯। আইকন ডিজাইন ১০। ডিজিটাল ইমেজ প্রসেসিং ১১। ব্রুশিয়ার ডিজাইন ১২। মোবাইল অ্যাপ/ইউআই ডিজাইন ইত্যাদিসহ আরো অনেক কাজ পাওয়া যায়।

লোগো ডিজাইন:
লোগো হচ্ছে একটি কোম্পানির পরিচয় বা ব্র্যান্ড। লোগোর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে চেনা যায় খুব সহজেই। বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ড অ্যাপল, স্যামসাং, গুগল কিংবা ফেইসবুক এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ড আড়ং, গ্রামীণফোন,রবি,এয়ারটেল,টেলিটক, প্রাণ কিংবা প্রথম আলো শুধুমাত্র তাদের লোগো দেখেই চিনতে পারা যায়। মানসম্মত দৃষ্টিনন্দন লোগো কিন্তু একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকেই তৈরি করতে হয়। শুধু প্রতীক নয় লোগোর সাথে কালারিংও ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। লোগো যেমন লোকাল বিজনেসে প্রয়োজন হয় তেমনি তা অনলাইনেও বহুল চাহিদা সম্পন্ন একটি বিষয়।

ফ্লায়ার বা ব্রশিউর তৈরিঃ
অনেক কোম্পানিই তাদের সার্ভিসগুলো ক্রেতাদের সামনে দেখানের জন্য ফ্লায়ার বা ব্রশিউর ডিজাইন করে থাকে। এধরনের অনেক গ্রাফিক্সের কাজ এ মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যায়। বায়ার রা এ মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে প্রচুর ফ্লায়ার বা ব্রশিউর ডিজাইন কাজ দিয়ে থাকে।

ভিজিটিং কার্ড তৈরিঃ
ডিরেক্ট মার্কেটিং বা ব্র্যান্ডিং এর জন্য ভিজিটিং কার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান উভয়েরই পরিচিতি বৃদ্ধির জন্য ভিজিটিং কার্ড জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ভিজিটিং কার্ডের পরিসর ছোট হওয়ার কারণে এখানে ডিজাইন করতে হয় সুন্দরভাবে যাতে সংক্ষেপে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ফুটিয়ে তোলা যায়। ভিজিটিং কার্ড গ্রাফিক ডিজাইনের একটি অন্যতম ক্ষেত্র। লোকাল মার্কেটেই শুধু নয়, অনলাইনেও আপনার ডিজাইনকৃত ভিজিটিং কার্ড সেল করে আয় করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন তৈরিঃ
পন্যের প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন সবচেয়ে বড় মাধ্যম। সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যপূর্ণ, নান্দনিক এবং বিনোদনমূলক বিজ্ঞাপন ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহজেই। একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার উপর নির্ভর করে একটি বিজ্ঞাপন সেই পন্যের প্রতি চাহিদা তৈরি করতে পারবে কিনা। বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্যও রয়েছে নানা মাধ্যম। অনলাইন, প্রিন্ট কিংবা ইলেকট্রনিক মিডিয়া যেখানে প্রচারের জন্যই হোক সবরকমের দক্ষতা একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের থাকতে হবে।

এসবের মধ্যে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে শুরু করতে পারেন ডিজাইনার হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার। কয়েকটি বিষয় শিখতে পারলে আপনার কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আরো সহজ হবে।

কোথায় জব/কাজ পাবেনঃ

-বিভিন্ন মিডীয়াতে

-বহুজাতিক কোম্পানিতে

– ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
– বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
– পত্রিকা/ম্যাগাজিন/প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান
– অনলাইন মার্কেটপ্লেস
– প্রিন্টিং এবং ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠান
– ওয়েব ডেভেলপিং প্রতিষ্ঠান

গ্রাফিক সম্পর্কিত আউটসোর্সিং কাজের ওয়েবসাইটসমূহঃ 

গ্রাফিক ডিজাইন প্রতিযোগীতাঃ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখানে সবাই ক্লাইন্টের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন সাবমিটের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে এবং যে বিজয়ী হয়, সে ঐ প্রতিযোগিতার নির্ধারিত অর্থ পায়। এই ধরনের প্রতিযোগিতা হয় এমন উল্লেখ যোগ্য সাইট হচ্ছেঃ www.designhill.com, www.designcrowd.com  www.99designs.com, www.freelancer.com/

ডিজাইন বিক্রিঃ আবার কিছু কিছু সাইট আছে, যেখানে আপনার তৈরি বিভিন্ন আইটেম আপলোড করে রাখবেন এবং সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। যেমনঃ  www.pixelclerks.com, www.fivesquid.com, www.teespring.com, www.graphicriver.net, www.codecanyon.net, www.freelancer.com .

বিড করে কাজ : আবার কিছু কিছু সাইট আছে, যেখানে ক্লাইন্টের জবে বিড করে কাজ করা যায়। যেমনঃ
www.upwork.com
www.freelancer.com
www.peopleperhour.com
www.guru.com

www.freelansy.com

অন্যান্যঃ উপরে উল্লেখিত সাইট গুলো ছাড়াও আরও অনেক সাইট রয়েছে যেখান থেকেও প্রচুর গ্রাফিক্সের কাজ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ http://www.fiverr.com

যেসব বিষয়ে আপনাকে যত্নবান হতে হবেঃ
-> অবশ্যাই ভালভাবে কাজ শেখা।
-> নিজে থেকে কিছু করার চেষ্টা করা (ক্রিয়েটিভিটি)
-> নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখা
-> প্রতিষ্ঠিত ডিজাইনারদের কাজ অনুসরণ করা
-> কাজের স্যাম্পল টেম্পলেট/পোর্টফলিও তৈরি করে রাখা
-> নিজের মার্কেটিং করা
কিভাবে গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেনঃ
গ্রাফিক ডিজাইন আপনি তিনটি মাধ্যমে শিখতে পারেন। ভিডিও টিউটরিয়াল দেখে দেখে অথবা ভাল কোন ফ্রিল্যান্সার গ্রাফিক ডিজাইনারের কাছ থেকে অথবা ভাল কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিতে পারেন।

 

 কোথায় শিখবেন?

প্রফেশন হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইনকে নিতে অবশ্যই কোনো ভালোমানের ডিজাইনার বা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের অন্যতম পথিকৃত প্রতিষ্ঠান নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ!  নকরেক আইটি ইন্সটিটিউট একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং এই প্রতিষ্ঠানের কোর্সগুলো হার্ভার্ড স্ট্যান্ডার্ড।  https://www.facebook.com/NokrekIT এই প্রতিষ্ঠানে অনলাইন অথবা অফলাইন যেকোন উপায়ে দক্ষতা অর্জনের কোর্স করা যায়।   আপনাকে সুপার দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে তৈরি করার লক্ষ্যে ৩ মাসব্যাপি ‘প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং’ প্রশিক্ষণটির আয়োজন করেছে নকরেক আইটি ইন্সটিটিউট।
মনে রাখবেন আমাদের দেশে  ৮০% প্রতিষ্ঠানই ভাল প্রশিক্ষন দেয় না সুতরাং আপনার এখানে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে দেশে কয়েকটি ভালো প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ভালো প্রতষ্ঠিান বাছাই করতে নিচের কয়েকটি স্টেপ আপনি অনুসরন করতে পারেন –
ক. প্রতষ্ঠিানটির ওয়েবসাইট, ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস পেজে তাদের তথ্য দেখুন। একটি ভালো প্রতিষ্ঠানের অবশ্যই ইনফরমেটিভ ওয়েবসাইট থাকে।
খ. প্রতষ্ঠিানটির প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালকদের খোজ নিন, দেখুন তারা যতাযথ আইটি সম্পর্কে এক্সপার্ট কিনা।
গ. আপনি যে বিষয় শিখবেন সে বিষয়ের প্রশিক্ষকদের সম্পর্কে খোজ নিন। তাদের মার্কেটপ্লেসের প্রোফাইল/ সাকসেস জানার চেষ্ঠা করূন।
ঘ. প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক জানার চেষ্ঠা করূন।

সবচেয়ে ভাল হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইন কেউ পারে তার কাছ থেকে সরাসরি শেখা, এক্ষেত্রে আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (fiverr.com, upwork.com, freelancer.com,  peopleperhour.com) অথবা প্রোডাক্ট মার্কেটপ্লেসে (graphicriver.net) কাজ করে এমন একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের কাছ থেকে শিখতে পারেন। এভাবে দ্রুত শিখা সম্ভব। যার কাছ থেকে শিখবেন অবশ্যই তার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিবেন, মার্কেটপ্লেসে তার প্রোফাইল দেখে নিতে পারেন। তবে এক্ষত্রে একটি ছোটখাট সমস্যা হচ্ছে নতুনরা অনেকেই জানে না কিভাবে একজন ভাল গ্রাফিক ডিজাইনার খুজে পাওয়া যাবে। বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার গ্রাফিক ডিজাইনার বাসায় বসে কাজ করে ফলে তাকে খুঁজে বের করাও একটু কঠিন। তবে নিজের কাজ রেখে আপনাকে সময় দিয়ে শেখানোর মত ফ্রিল্যান্সার পাওয়া সত্যি অনেক কষ্টকর।

গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আয়

প্রশ্নই আসতে পারে, প্রতি মাসে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আয় কত হতে পারে। এ সম্পর্কে ডিজাইনারদের বেতন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিজাইনার স্যালারিজের মতে, একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার প্রতি বছর গ্রাফিক্স ডিজাইন বা এ সম্পর্কিত চাকরি বা কাজ করে ১ লাখ ডলার সেই হিসেবে বাংলাদেশি প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় করতে পারে। বাংলাদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনে ডিপ্লোমাধারীর বেতন মাসে সাধারণত ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে ব্যাচেলর ফাইন আর্টসে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের বেতন মাসিক ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনি একটি লোগো ডিজাইন করলে ৫ থেকে শুরু করে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে দক্ষতার ক্ষেত্রে ও বেশি ক্রিয়েটিভ কাজ হলে এটি ৫ হাজার ডলার পর্যন্তও হতে পারে। এ ছাড়া একটি ওয়েবসাইটটের ফাস্ট পেজ ডিজাইন করার ক্ষেত্রে ৫০ ডলার থেকে শুরু করে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। মূলত কাজের মান ও ক্রিয়েটিভির ওপরই ভিত্তি করে আপনার আয় নির্ভর করবে।

পেশা হিসেবে মর্যাদা ঃ
গ্রাফিক্স ডিজাইনার, একটি সম্মানজনক পেশা। এ পেশায় বেতনটা নির্ভর করে দক্ষতার ওপর। এ সেক্টরে মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করা যায় সহজেই। আর প্রথম সারির দৈনিক, টিভি চ্যানেল, অ্যাড ফার্মগুলোতে চাকরি হলে বেতন অনেক বেশি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ডিজাইনারদের বেতন ২০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে এক /দুই লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য পেশার চেয়ে এখানে ঝামেলা কম। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে ঠায় বসে থাকতে হয় না কর্মমুখী শিক্ষায় স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স করে আপনিও গড়তে পারেন স্বপ্নের ভবিষ্যত্। অন্যের অধীনে চাকরি না করেও গড়ে তুলতে পারেন স্বতন্ত্র সেবাধর্মী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর এসব কর্মমুখী শিক্ষার মধ্যে বর্তমানে চাকরির বাজারে এগিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন। তবে যদি কাজে স্বকীয়তার প্রকাশ না থাকে তাহলে টিকে থাকাটাই কষ্টকর। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আইডিয়া লেভেল ভালো না হলে তিনি হয়তো কাজ করতে পারবেন, তবে চ্যালেঞ্জে টিকে থাকতে পারবেন না। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বড় বড় কোম্পানিগুলোতে আকর্ষণীয় ডিজাইন তৈরিতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের বিকল্প নেই। সুতরাং, সৃষ্টিশীল এ বিষয়েও যে কেউ গড়তে পারেন নিশ্চিত ক্যারিয়ার।
কাজেই গ্রাফিক্স ডিজাইনের আপনার আগ্রহ থাকলে একেই আপনি নিজের পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিতে পারেন।