কিভাবে ফাইভার মার্কেটপ্লেসে নিয়মিত অর্ডার পাবেন?

Click here for more: t.ly/1a6f

কিভাবে ফাইভার মার্কেটপ্লেসে নিয়মিত অর্ডার পাবেন?

১) প্রফাইল অপটিমাইজেশনঃ

আপনার প্রফাইল সেটিংস ও সুন্দর করে সাজানোর বিষয়টি যেকোন ক্লায়েন্টকে আকর্ষণ করতে পারে। আপনার সার্ভিসের সাথে মিল রেখে একটি User Name সেট করুন অথবা নিজের নাম দিতে পারেন। স্পষ্ট ও পরিষ্কার প্রফাইল ছবি যুক্ত করুন, পিছনে হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড দিতে পারেন। আপনার প্রফাইলে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা পায় ক্লায়েন্টের কাছে। নিজের প্রফাইল ডেসক্রিপশনে সংক্ষিপ্তাকারে নিজের কাজ ও দক্ষতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করুন। যে ভাষা পারেন সে ভাষাগুলো যুক্ত করুন। স্কিল ফিল্ডে শুধুমাত্র যে কাজগুলো পারেন সেগুলো নির্বাচন করে এক্সপার্ট নির্বাচন করুন। একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্ত করুন। বিভিন্ন সোসিয়াল মিডীয়া লিংক করুন।  আপনার প্রফাইলটি সম্পূর্ণ করুন। 

আকর্ষনীয় গিগঃ 

আপনার গিগটির চমতকার টাইটেল নির্বাচন করুন। যেমনঃ Professional Hotel Booking Website. সঠিক ট্যাগ ব্যবহার করুন ও গিগের মধ্যে কোন প্রকার বানান ভুল ও গ্রামার ভুল যেন না হয় তা খেয়াল রেখে সাজান। গিগ ট্যাগ যেমনঃ Hotel Website, Business Website, Hotel Booking, Luxurious room, Hotel etc. সর্বোচ্চ ৫টি ট্যাগ ব্যবহার করতে পারবেন।  গিগের মধ্যে প্রাইসের তিনটি প্যাকেজ উল্লেখ করে সুন্দর করে ব্যাখ্যা দিন কোন প্যাকেজটিতে কি অফার দিচ্ছেন। নতুন সেলার হলে অবশ্যই ৭টি সার্ভিস এর গিগ খুলতে রিকোমেন্ড করব। 

গিগ এর ছবিঃ

আপনার সার্ভিস এর সামঞ্জস্য রেখে হাই রেজ্যুলেশন( 550*370 Pixel) এর একটি চমতকার ছবি কিংবা ইডিটেড ছবি ব্যবহার করতে পারেন। সরাসরি গুগোল থেকে ব্যবহার করা অনুচিত। এক্ষেত্রে কপিরাইট ফ্রি বিভিন্ন সাইট থেকে ছবি ব্যবহার করতে পারেন। যেমনঃ Pexels, Burst (by Shopify), Pixabay, StockSnap.io। মনে রাখতে হবে গিগ এর ছবি যেন আকর্ষনীয় ও স্পষ্ট হয়। 

গিগ এর বর্ণনাঃ

গিগ এর বর্ণ্না খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে বিস্তারিত লিখতে হবে এ ব্যাপারে ধারনা নিতে বিভিন্ন লেভেল টু কিংবা টপ রেটেড সেলারদের গিগ দেখে ধারণা নিতে পারেন তবে কপি করা যাবেনা। নিজে থেকে সাজিয়ে লিখতে হবে। আপনার বিশেষ সেবাসমূহ নিয়ে বুলেট পয়েন্ট ও বোল্ট করে ক্লায়েন্টকে আকর্ষণ করতে পারেন। আপনার গিগের বর্ণ্নার শেষে ক্লায়েন্টকে বলতে পারেন, Please Place order and relax now 🙂 । বর্ণ্নার নিচে FAQ (Frequently Asked Questions)  অংশটি মিনিমাম ৫টি প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে ফিলাপ করবেন। এখানে আপনি যে সার্ভিস দিবেন তা ক্লায়েন্ট নিজে থেকে প্রশ্ন করে যেন উত্তর পেতে পারেন আপনি ইনেকটিভ থাকলেও, তা ভেবেই লিখে রাখতে পারেন। গিগ বর্ণ্নায় মেইন কীওয়ার্ড সর্বোচ্চ ৩-৪টি ব্যবহার করুন। যেমন আপনার গিগ টাইটেলঃ WordPress Landing Page। এক্ষেত্রে Landing Page কথাটি আপনার মেইন ফোকাস কীওয়ার্ড। 

গিগ এর ভিডিওঃ

ফাইভারে বলাই থাকে যে, আপনার ভিডিও ৪০% ইউজার এনগেজমেন্ট তৈরি করে। সুতরাং ফাইভার গিগ ভিডীও তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিজের সার্ভিস সম্পর্কে স্পষ্টাকারে নিজে ১৫-২০ সেকেন্ড ব্যাখ্যা দিলে ক্লায়েন্ট আরো বেশি বিশ্বাস করতে পারে ও কাজ দিতে দ্বিধা করেনা। ভিডিও যেন হাই কোয়ালিটি হয় সেটা মাথায় রাখতে হবে। 

বায়ার রিকুয়েস্টঃ 

নিয়মিত কাজ পেতে বায়ার রিকুয়েস্ট এর বিকল্প নেই। সংক্ষিপ্ত ও গুছিয়ে বায়ার রিকুয়েস্ট দিলে বায়ার কাজ দিতে বাধ্য। তবে গধবাধা বায়ার রিকুয়েস্ট কপি পেস্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

টাইম সেন্স ও দ্রুত রেস্পনসঃ  গ্লোবাল ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে গেলে অবশ্যই টাইম সেন্স বিষয়টি থাকতে হবে। আকর্ষণীয় গিগ খুললে বায়ার অবশ্যই নক দেবেই। এক্ষেত্রে বায়ারের রেসপন্স তৎক্ষণাৎ প্রদান করতে হবে। বায়ার রিকুয়েস্ট প্রদানের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের টাইমজোন ভেবেই তাদের অফিস আওয়ারে সেন্ড করলে ফলপ্রসুতা বাড়ে। 

পজিটিভ রিভিউ এবং রেটিংসঃ

সরাসরি পজিটিভ রিভিউ চাওয়া ফাইভারের নিয়ম বর্হিভূত। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্টকে বলতে পারেন, Thank you for the great experience. I would be glad to receive your positive feedback which will help my profile grow faster. 

একটি প্রফাইলে ৫/৬টি ভাল ফিডব্যাক ও রেটিং থাকলে পরবর্তীতে কাজ পেতে সহজ হয়ে যায়। 

গিগ আপডেট ও ট্রেন্ড ফলো করাঃ 

সবসময় সকল প্রজেক্টের চাহিদা সমান থাকেনা। মার্কেটপ্লেস রিসার্চ করে সেভাবে গিগ আপডেট করতে হবে। প্রয়োজনে একটি সার্ভিসে ২/৩ মাস যাবত কোন অর্ডার না আসলে গিগটি ডিলিট করে নতুন সার্ভিস যুক্ত করতে হবে। যেমন বর্তমানে বুক কভার ও ফ্লায়ার ডিজাইন, ল্যান্ডিং পেইজ, ইকমার্স ওয়েবসাইট। ফেসবুক ম্যানেজার, ইনফগ্রাফিক্স, ইউএক্স,  ফেসবুক মার্কেটিং, এসইও, লগো ডিজাইন এগুলোর প্রচুর ডিমান্ড আছে। 

সোসিয়াল মিডীয়া ব্রান্ডীংঃ

সরাসরি কোন সোসিয়াল মিডিয়াতে নিজের ফাইভার লিংক শেয়ার থেকে বিরত থাকুন। এতে কাজের চেয়ে ক্ষতি বেশি। স্পামিং এর দায়ে একাউন্ট হারাতে পারেন। এক্ষেত্রে নিজের আকর্ষণীয় ডিজাইন যুক্ত করে শর্ট লিংক যুক্ত করে দিন। এরপর বিভিন্ন সার্ভিস প্রাসংগিক কী-ট্যাগ যুক্ত করুন।

পোর্টফলিও প্রস্তুত করে রাখুনঃ

দীর্ঘমেয়াদী ক্লায়েন্ট পেতে নিজের একটি পোর্টফলিও তৈরি করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পোর্টফলিও হচ্ছে আপনার নিজের সার্ভিস রিলেটেড কাজের একাধিক সেম্পলের সম্ভার। ক্লায়েন্ট যখন আপনার পূর্বের কাজ দেখতে চাইবে তখন সেখান থেকে কয়েকটি প্রাসংগিক পোর্টফলিও দিতে পারবেন। 

টিপস এন্ড ট্রিকস সহভাগিতায়

ফাইভার লেভেল ২ সেলার

সিনিয়র মেন্টর

নকরেক আইটি ইন্সটিটিউট